মার্চ ফর ফেলানী-২০২৫ চলছে: সীমান্তে আমরা আর লাশ দেখতে চাই না-সারজিস আলম।

জাকারিয়া শেখ, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী হত্যার ন্যায্য বিচার এবং সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে আয়োজিত “মার্চ ফর ফেলানী-২০২৫” বর্তমানে চলমান। কুড়িগ্রামের জেলা শহর থেকে শুরু হয়ে নাগেশ্বরী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে গিয়ে এই লং-মার্চ শেষ হবে। এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদে হাজারো মানুষ, ছাত্র-জনতা, মানবাধিকার কর্মী এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এসে লং-মার্চে যোগ দিতে থাকেন। জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচি ইতোমধ্যেই একটি শক্তিশালী প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।


লং-মার্চে বক্তারা সীমান্তে নির্বিচারে হত্যা বন্ধ এবং ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “আমরা আর সীমান্তে লাশ দেখতে চাই না। সীমান্ত হত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর শেষ দেখতে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানীসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এটি বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।”

লং-মার্চ চলমান থাকলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদ কেবল কুড়িগ্রামে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এখন পর্যন্ত “মার্চ ফর ফেলানী-২০২৫” জনসাধারণের বিপুল অংশগ্রহণে একটি সফল আন্দোলনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তবে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় মানুষ ক্ষুব্ধ এবং হতাশ।


Categories: কুড়িগ্রাম,সর্বশেষ

Comments are closed

ব্রেকিং নিউজ