
জাকারিয়া শেখ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামে আসছেন। দীর্ঘ ২১ বছর পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীরের এই সফর কুড়িগ্রাম জেলার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গৌরবময় বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় নেতারা।
আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিশাল কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী।
গতকাল (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের ওএফসি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২১ বছর পর কেন্দ্রীয় আমীরের এই সফর কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য বড় এক অর্জন। তিনি আরও জানান, সম্মেলনে প্রায় দুই লাখ কর্মী ও সমর্থকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহাজালাল সবুজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, সম্মেলনটি সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন এবং অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। তারা কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংগঠনের কর্মপন্থা তুলে ধরবেন।
কর্মী সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আয়োজকদের মতে, নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে। জামায়াতের স্লোগান “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার” ধ্বনিতে মুখরিত হবে পুরো এলাকা।
আয়োজকরা এই সম্মেলনকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করে জানান, “আমাদের লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন। প্রয়োজনে আমরা রক্ত দিয়েও এ লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর।”
সম্মেলন সফল করতে নেতাকর্মীরা গত কয়েকদিন ধরে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জানান, এই সম্মেলন কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছেন। নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন সফল হবে এবং জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি আরও বেগবান হবে।
এই সম্মেলন কুড়িগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি কাছে পাওয়ার সুযোগ তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



