মনোবাসনা পূরণের কামনায় পিরোজপুরে ১০৮ চুলার ঐতিহ্যবাহী চিতই পিঠা উৎসব


পিরোজপুর প্রতিনিধি: একটি-দুইটি বা দশটি নয় এক সাথে ১ শত ৮ টি চুলায় ভাজা হচ্ছে চিতই পিঠা। আর এই ১শত ৮ টি চুলায় পালাক্রমে চিতই পিঠা ভাজছে দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রায় সহাস্রাধিক নারী। প্রায় শতবছর ধরে নিজের মনোবাসনা পূরণের কামনায় পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের কালিমন্দিরে এই পিঠা উৎসব হয়ে আসছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী বাজার সংলগ্ন দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ির কালী মন্দিরে প্রায় মত বছর ধরে এ পিঠা উৎসব হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওই মন্দিরের ভক্তসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন মাঘ মাসের অমাবশ্যা তিথিতে চিতই উৎসবে যোগ দেন। উৎসবে ১০৮টি চুলায় চিতই পিঠা তৈরি হয়। মঙ্গলবার রাত ৮ টায় শুরু হওয়া এ পিঠা উৎসবে  প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে হাজারো উৎসাহী মানুষ উৎসবে যোগ দিয়েছে।


কালী মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্বে থাকা দেবলাল চক্রবর্তী জানান প্রায় একশ বছর আগে থেকে তাদের পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী এ মেলার আয়োজন করেন। এখানে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা আসেন। তারা তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য এখানে মানত করেন। আর মনোবাসনা পূর্ণ হলে এখানে এসে চিতই উৎসবে যোগ দেন।
তিনি জানান,রাত ৮টায় বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়; আর রাতব্যাপী ও পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান চলে। পরে সকালে খিচুড়ি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়। ১০৮টি চুলায় চিতই পিঠা (কাঁচি খোচা পিঠা) তৈরী হয়। একটি মাঠে মাটি দিয়ে সারি করে তৈরি ওইসব চুলায় মাটির তৈরি সাজে চালের গুড়ার ওই পিঠা তৈরিতে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নারী ভক্তরা।এ উৎসবকে স্থানীয়ভাবে চিতই উৎসব বলে, জানান দেবলাল।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ফরিদপুরের স্কুল শিক্ষিকা দিপু বালা জানান, তিনি ছোট বেলা থেকে তার বাবা-মার সঙ্গে প্রতি বছরের মাঘ মাসের এ পিঠা উৎসবে এখানে আসেন। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ অংশ নেন। এদের কেউ কেউ তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্যও এখানে যোগ দেন।

বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকারসুমন বড়াল জানান, তার বিয়ের প্রায় ১৫ বছরেও কোনো সন্তান হচ্ছিল না। এখানে মানত করলে ‘শ্রষ্টার কৃপায়’ পুত্র সন্তান হয়। তাই এ সন্তান নিয়ে এখানে এসেছেন তিনি।

মন্দিরের পিঠা উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি অনিরুদ্র লাল দাস  জানান, “এখানে এ উৎসব একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসবে পরিণত হয়েছে। শত বছরের এ উৎসব সম্পর্কে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের কাছ থেকে  জেনেছি। এ উৎসবে আমরা স্থানীয়রা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকি।”

তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশা ভক্তরা তাদের মনোবাসনা বিশেষ করে সন্তান লাভের আশায় নারীরা এই পিঠা উৎসবে যোগ দিয়ে থাকে।


Categories: নাজিরপুর,পিরোজপুর,বরিশাল বিভাগ,সর্বশেষ

Comments are closed

ব্রেকিং নিউজ