
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গোলবুনীয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী সাংরাইল খালের ওপর ৩০ বছর আগে এলজিইডি ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মণ করে। এ সেতুটি চার ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ৪০ গ্রামের মানুষের সংযোগ সেতু হিসেবে চলাচলে নির্ভরশীল। সেতুটি গত ১৭ বছর ধরে চরম বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। লোহার স্লিপার সেতুর পাটাতন ধসে ও লোহার বীমগুলো মরিচা ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। গ্রামবাসি মিলে নিজেরা লোহার বীমের ওপর সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সেতুর ওপর সাঁকো বানিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। এ সেতুর সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,হাসপাতাল ও ইউনিয়ন বাজারে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ বেহাল সেতুটি এলাকায় সেতুর কঙ্কাল নামে পরিচিত ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ বছর আগে মঠবাড়িয়ার আমড়াগাছিয়া-বেতমোড় ইউনিয়নের সাংরাইল খালের ওপর লোহার স্লিপার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এ সেতুটির সাথে বেতমোড়,আমড়াগাছিয়া ও বড়মাছুয়া ইউনিয়নের অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত নির্ভরশীল।
ভূক্তভোগি গ্রামবাসি জানান, ২০০৭ সালের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় সিডরে গাছ পড়ে সেতুটির পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সেতুর লোহার বিম মরিচা ধরে নরবড়ে হয়ে পড়ায় পুরো কাঠামো ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীসহ সেতু দিয়ে প্রতিদিন জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বেতমোড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭৮ নম্বর জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলচল করছে। সেই সাথে ৪০ গ্রামের কয়েকহাজার মানুষ সেতুটির কারনে চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষক মো. সিদ্দিক মীর বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য জন প্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছি। তবে কোনো ফল মেলেনি। ছাত্রছাত্রীরা চরম আতংক নিয়ে রোজ সেতু পার হয়। কৃষকরা ফসল ও গবাদি পশু পারাপারে দুভোর্গ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক মিজানুর মীর বলেন, ৩০ বছর আগের সেতুটি গত ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আর কেউ মেরামত করেনি। আমরা চরম কষ্টে আছি। শিশু ও বৃদ্ধরা সেতু পার হতে পারেনা। তাদের হাত ধরে ঝুঁকি নিয়ে পার করতে হয়।
মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম সেতুতে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ৩০ বছর আগে সেতুটি উপজেলা পরিষদ নির্মাণ করেন। স্থানীয সরকারর প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রধান কার্যালয়ে আমরা জ্বরাজীর্ণ সেতুর তালিকা করে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় সেতুটি নির্মাণ করা যাচ্ছেনা। বরাদ্দ পেলে দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করা হবে।



