ফুলবাড়িতে স্বাস্থ্য ঝুঁকির পরও বাড়ছে তামাক চাষ।

জাকারিয়া শেখ,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় তামাক চাষের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও অধিক মুনাফার আশায় কৃষকেরা এই চাষে ঝুঁকছেন। ধান ও সবজির মতো সাধারণ ফসলের চাষ কমিয়ে বর্তমানে অধিক লাভজনক তামাক চাষের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন অনেক কৃষক।

এ বছর শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক কৃষকই বিকল্প হিসেবে তামাক চাষ শুরু করেছেন। উপজেলার ধনিরাম গ্রামের কৃষক বিকাশ চন্দ্র জানান, “তামাক চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি আয় হয়। শীতকালীন সবজির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা তামাক চাষে ঝুঁকেছি।”


উপজেলার আরেক কৃষক বলেন, “যদিও তামাক চাষ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু অধিক মুনাফার আশায় আমাদের এটি করতে হচ্ছে।”

তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। রাবাইতারী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃষি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “তামাক চাষ পরিবেশ, মানবদেহ এবং মাটির উর্বরতার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানি প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রিম টাকা, সার এবং পরামর্শ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে। ফলে কৃষকরা ধান-সবজির মতো ফসলের বদলে তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।”

তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর ফুলবাড়ি উপজেলায় তামাক চাষের পরিমাণ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের মতে, তামাক চাষের ফলে মাটির উর্বরতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তামাক চাষের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “তামাক চাষ মাটি, পরিবেশ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের এই ক্ষতিকর চাষে আকৃষ্ট করছে। তামাক চাষে কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা না থাকায় কৃষকরা অধিক লাভের আশায় এতে ঝুঁকছেন।”

বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির আর্থিক সহায়তা এবং প্রণোদনা তামাক চাষ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এই কোম্পানিগুলো প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রিম অর্থ, সার, এবং চাষ সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে তামাক চাষে উৎসাহিত করছে। এর ফলে ধীরে ধীরে তামাক চাষের এলাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং মাটি ও পরিবেশ রক্ষায় কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের তামাক চাষ থেকে দূরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি, তামাকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।


Categories: বরগুনা,সর্বশেষ

Comments are closed

ব্রেকিং নিউজ